পৃথিবীর কিছু ভয়ংকর প্রাচীন প্রথা

জাতি, গোত্র, ধর্ম, দেশ ভেদে আমাদের পৃথিবীতে প্রচলিত আছে নানান প্রথা, রিতি, রেওয়াজ। বিংশ শতাব্দীতে এসেও প্রচলিত আছে কিছু প্রাচীন প্রথা।

সভ্যতার এই যুগে আপনার কাছে বর্বর, অমানবিক বা বিকৃত মনে হলেও সত্যি সত্যি এর প্রচলন রয়ে গেছে।

এমন এ কিছু অদ্ভুত আর ভয়ংকর সব প্রাচীন প্রথা নিয়ে থাকছে আজকের আর্টিকেল।

মানুষের মাংস খাওয়া 

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। পাশের দেশ ভারতের বারাণসীতে অঘোরী বাবা নামের এক ব্যক্তি মৃত মানুষ টুকরো করে মাংস খান। হিন্দু ধর্ম মতে, গর্ভবতী, পবিত্র ব্যক্তি,কুমারী মেয়ে,বাচ্চা, কুষ্ঠরোগ এবং সর্প দংশনে মৃত ব্যক্তিকে পোড়ানো হয় না।

ফলে এই লাশ গুলোকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে লাশ সংগ্রহ করেন এই বাবা।

তার বিশ্বাস এই প্রথা পালনের মাধ্যমে তার মৃত্যুভয় দূর হবে ও আধ্যাত্বিক জ্ঞান লাভ হবে।

আকাশে দাফন

মানুষ মারা গেলে ধর্মীয় ভাবে হয়ত দাফন করা হয় আর নইলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তিব্বতের একটি জনগোষ্টি এর কোনটাই করে না। তিব্বতের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি পবিত্র প্রথার নাম হচ্ছে ঝাটোর। এটি হাজারো বছর ধরে চলে আসা এক প্রথা।

ইংরেজিতে স্কাই বারিয়াল বলা হয়।এ প্রথা অনুসারে, মৃত ব্যক্তির শরীর টুকরো টুকরো করে শকুন অথবা অন্যকোন মাংশ খাদক পাখিকে খাওয়ানো হয়।

তিব্বতের লোকেরা মনে করেন এতে মানুষের পুনর্জন্ম হবে। এজন্য অবশ্য লাশের টুকরোগুলো সব থেকে উঁচুস্থানে রাখতে হয়।

মৃত শরীরের সাথে নাচানাচি

শোনার পর হাসবেন নাকি ভয় পাবেন সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু এটিই সত্য। উৎসবটি মাদাগাস্কারের। সেখানে কেউ মারা গেলে তাকে নিয়ে উৎসব করা হয়। ফামাহিদাহ নামক এই প্রথায় সেখানকার লোকেরা মৃতদেহ দাফন করার পর পুনরায় তুলে আনেন।

এসময় তারা গান গায় ও নাচ করেন! দাফন করা স্থানের নিকটে গান ও বাদ্য বাজনা করেন।

এই অদ্ভুদ কর্মটি তারা দুই বছর থেকে সাত বছর পর্যন্ত করে থাকেন।

মৃত ব্যক্তির হাড় খাওয়া 

জেনে অবাক হলেন! বিশ্বাসই হচ্ছে না তাইতো? কিন্তু এটিই সত্য। ব্রাজিল এবং ভেনেজুয়েলার কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের মৃত আত্মীয়ের হাড় খায়! মৃতদেহ পোড়ানোর পর যে হাড়গুলো পোড়া যায় না সেগুলো এবং ছাই খেয়ে থাকে।

এসব খাওয়ার সময় তারা কলার স্যুপও খায়। এভাবে তারা মৃত ব্যক্তির প্রতি ভালবাসার অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে।

আত্মার যোগ ব্যায়াম

পশ্চিম আফ্রিকার একটি ধর্ম বিশ্বাস আছে ভোডুন। সেই বিশ্বাস অনুসারে, সেই সম্প্রদায়ের লোকদের টানা তিনদিন খাদ্য ও পানাহার ব্যতীত জঙ্গলে থাকতে হয়।

তাদের ধারণা এতে আত্মার যোগ ব্যায়াম হয়। সেইসাথে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। অনেকেই বলেন সে সময় তাদের শরীর বেহুশ হয়ে যায়।

শেয়ার করুনঃ
আরো পড়ুনঃ  মঙ্গোল সাম্রাজ্য ও চেঙ্গিস খান