গোপন সংঘঠন ইলুমিনাতি

ইলুমিনাতি এই নামটি শুনে নি এমন মানুষ খুব কমই আছে। ইলুমিনাতি একটি গোপন সংঘঠন যারা “ New World Order ” এর মাধ্যমে পৃথীবিতে নিজেদের শাসন চালু করতে চায় ।

যার সদস্যবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ এবং বিশ্ব মিডিয়ার রাঘব বোয়ালগন।

ইলুমিনাতি একটি গুপ্তসভা যা বিশ্বের সকল দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে দেশে অত্যাচারী সরকার ব্যবস্থা কায়েম করে দেশ ও জাতি নির্বিশেষে মানুষের ধর্মীয়, মানবিক, সামাজিক এমনকি ব্যক্তিগত অস্তিত্বের উপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা।

ইলুমিনাতির উদ্ভব

১৭৭০ সালে `এমশেল মেয়ার রথসচাইল্ড’ এর নেতৃত্বে ইউরোপীয় ব্যাংকার সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করে ইলুমিনাতি নামের এই সংগঠনটির।

ইলুমিনাতি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্ট ধর্মের বিনাশ, রাজতন্ত্রের বিনাশ, বিশ্ব সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক বন্ধন এবং বিবাহ ছিন্ন করা, উত্তরাধিকার এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার রদ করা এবং সর্বোপরি জাতিগত পরিচয় মুছে ফেলা।

ইলুমিনাতির লগোতে ব্যবহৃত চোঁখ

১৭৭৩ সালে রথসচাইল্ড ১২ জন ইহুদি ক্যাবালিস্ট ব্যাংকারদের নিয়ে অর্থনৈতিক আধিপত্য বিষয়ে একটি পরিকল্পনা সভার আয়োজন করেন এবং ১৭৭৬ সালে এই দলটি এডাম ওয়াইশপট নামে ২২ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইন্সট্রাক্টরকে নিয়োগ দেয় ইলুমিনাতিকে পুনর্গঠিত করতে।

এই এডাম ছিল একজন ইহুদি ধর্মযাজকের ছেলে কিন্তু সে নিজেকে পরিচয় দিত একজন ক্যাথলিক হিসেবে।

১৭ থেকে ২০ শতকের মধ্যে যতগুলি বিপ্লব এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে তার পিছনে ছিল এই ক্যাবালিস্ট ব্যাংকারদের হাত।

এডাম ওয়াইশপট

এদের একচেটিয়া ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণ ছিল সরকারের ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে এবং এটা তারা ব্যবহার করেছে বিশ্ব জয় করার জন্য।

ইলুমিনাতি কখনোই নিজের নামে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতো না বা করে না।

এরা সবসময় নিজেদের পর্দার আড়ালে রাখে এবং অন্যের দ্বারা নিজেদের কাজ করিয়ে নিতে অভ্যস্ত।

এ ব্যাপারে এডাম ওয়াইশপট তার লেখনীতে বলেছিলো যে, `আমাদের কর্মকান্ডের শক্তি হচ্ছে আমাদের লুকায়িত পরিচয়।

একে উন্মোচিত করো না কখনো এবং কোথাও। সকল কাজ অন্যের নামে এবং অন্যকে দিয়ে করিয়ে নাও’।

রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে যে কোনো ধর্মের ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী তা সে যে কোনো দেশেরই হোক তাদের অনেকেই গোপনে এই সংগঠনের সদস্য যা হয়তো তার পরিবারের লোকও জানে না।

আপনার আমার আশে পাশেই হয়তো এমন অনেক প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব আছেন যাঁদের আমরা সম্মানের চোখে দেখি, তাঁরাও হয়তো এর সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়।

সাধারণত এই লোকগুলো রাষ্ট্রের প্রচন্ড ক্ষমতাধর এবং প্রভাবশালী হয়ে থাকেন।

কার্যক্রম

প্রচুর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, শক্তিমান সিক্রেট সোসাইটি ইলুমিনাতি মূলত এ বিশ্বের সকল প্রধান ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে।

১. ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সূচনাও ইলুমিনাতির হাতেই।

২. নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে ইলুমিনাতি।

৩. শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করে ইলুমিনাতি। ইহুদিদের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মতে, ইলুমিনাতির এক চোখা প্রতীক প্রমাণ করে যে, ইলুমিনাতি হলো সেই সংঘ যারা একচোখা দাজ্জাল এর আগমনের পথ সুগম করছে।

মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, আমেরিকা এবং প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে কে তা নির্ধারণ করে ইলুমিনাতি।

গত কয়েক দশক ধরে আমেরিকার প্রত্যেকটা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে একেবারে ছক কষে।

যাতে বিল ক্লিনটনের নির্বাচন থেকে শুরু করে জর্জ বুশ, বারাক ওবামা, আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে ইলুমিনাতির হাত আছে বলে ধারণা করা হয়।

মিডিয়াতে প্রভাব

মার্কিন পপ তারকা বিয়ন্সে-কে বলা হয় ‘ইলুমিনাতির রানী’। ২০১৩ সালের দিকে ‘সুপারবল হাফটাইম পারফরমেন্স’-এ তিনি এমন কিছু ডার্ক সিম্বল ব্যবহার করেন যা ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের পুরোপুরি নাড়িয়ে দেয়।

সাধারণ মানুষদের ব্রেইনওয়াশ করে ইলুমিনাতি তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

ফলে তারা সবচেয়ে সোজা পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে মিউজিক ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

জাস্টেইন বিবারের হাতে ইলুমিনাতির “ পেঁচা ” অঙ্কণ

টেইলর সুইফট, জেই-জি, কিম কার্দেশিয়ান, ক্যানি ওয়েস্ট, রিহান্না, লেডি গাগা, বব ডিলান, জিম ক্যারি, ম্যাডোনা, প্রিন্স ছাড়াও আরও বেশ কিছু তারকা ইলুমিনাতির সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হয়।

অনেক বিখ্যাত মিউজিক তারকা ও অভিনয়শিল্পীর মৃত্যুর পেছনেও ইলুমিনাতির হাত আছে বলে বিশ্বাস করেন কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা।

যেমন: মাইকেল জ্যাকসন, বব মার্লে, জন লেনন, দ্য জোকার খ্যাত হিথ লেজারের মৃত্যু।

উল্লেখযোগ্য সদস্য

ধারণা করা হয়, পৃথিবীর ক্ষমতাধর সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পরিবারবর্গ এর অন্তর্ভুক্ত।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ থেকে শুরু করে দ্য রথসচাইল্ড পরিবার, দ্য রকফেলার পরিবার, হেনরি কিসিঞ্জার, জর্জ বুশ, বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এদের সবাই ইলুমিনাতি’র সদস্য। এদের ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত।

ইতিহাসে তাদের এত ক্ষমতাধর হওয়ার নেপথ্যে কাজ করেছে ইলুমিনাতি। ১৭৯৮ সালের দিকে, আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এক বছরের মাথায় বলেছিলেন, ‘ইলুমিনাতি তাদের মতবাদ পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে’।

সুত্র: wikipedia, Quora, internet

শেয়ার করুনঃ
আরো পড়ুনঃ  পৃ্থিবীর কিছু অদ্ভত সুন্দর জায়গা