গ্রীন-টি এর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

গ্রীন টি হ’ল এক ধরণের চা যা ক্যামেলিয়া সিনেনেসিস-পাতা এবং কুঁড়ি থেকে তৈরি করা হয় । এটি চা তৈরির স্বাভাবিক জারণ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় না। গ্রিন টির উদ্ভব চিনে, তবে এর উৎপাদন বর্তমানে পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে ও ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রীন টি এর উপকারিতা

. গ্রীন টির সবথেকে বড় গুণ হল এটি যেকোনো ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

যেমন স্কিন ক্যানসার,ব্রেস্ট ক্যানসার,লাঙ ক্যানসার,লিভার ক্যানসার,গলব্লাডার ক্যানসার,প্রস্টেট ক্যানসার ইত্যাদি।

২. গ্রিন টি রক্তের গ্ল‌ুকোজ -এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গ্রিণ টি প্রত্যক্ষ ভাবে সাহায্য করে। তাই এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী।

৩. বিভিন্ন স্টাডি থেকে দেখা গেছে যে যাঁরা প্রতিদিন ১ কাপ গ্রীন টি খান তদের তুলনায় যাঁরা প্রতিদিন ৫ কাপ গ্রীন টি খান তদের হার্ট অনেক বেশি ফিট। তাদের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ হবার সুজোগ খুবই কম।

আরো পড়ুনঃ  চুল পড়া রোধে মেনে চলুন কয়েকটি পরামর্শ

৪. যদি গ্রীন টি রোজ পান করা যায় তাহলে ডায়াবেটিসের মত রোগকে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।

আরো দেখুনঃ মুখের দুর্গন্ধ দুর করুন ঘরোয়া উপায়ে

৫. দাঁত ভালো রাখতে হলে গ্রিন টি খেতে পারেন। কারণ, গ্রিন টি’র ‘ক্যাটেকাইন’ নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে দেয় না।

যার ফলে গলার সংক্রমণ-সহ দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রিন টি খেলে তা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৬. অবসাদ বা ডিপ্রেশন দূর করতে গ্রিন টি খুবই কার্যকরী। চা পাতায় ‘থিয়ানিন’ নামের অ্যামাইনো এসিড থাকে। এই উপাদান অবসাদ কমাতে সাহায্য করে।

তাই নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে অবসাদ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৭. গ্রীন টি ত্বক ও চুল কে সুন্দর রাখতেও ভীষণ ভাবে উপকারী।শুধু সুন্দর নয় বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা যেমন ব্রণ,প্যাচি স্কিন,ত্বক ফেটে যাবার সমস্যা এছাড়াও খুশকির মত সমস্যা যেটা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন সেটি থেকেও মুক্তি দেয় এই গ্রীনটি।

আরো পড়ুনঃ  জেনে নিন ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো

৮. শরীরের বিভিন্ন অংশের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রিন টি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯. গ্রীন টির আরেকটি অসাধারণ গুণ হল এটি আমদের ব্রেন কে সঠিক ভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে ।

এটি ব্রেনে রক্ত সঞ্চালনকে ঠিক রাখে। তার ফলে ব্রেন দ্রুত কাজ করে।

কখন খাবেন

গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে পরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দিনে ৩ কাপের বেশি খাওয়া উচিত নয়। এর বেশি গ্রিন টি খেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে।

বেশি পরিমাণ গ্রিন টি শরীর থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান বের করে দিতে পারে।

সকালে মেটাবলিজমের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সকালে উঠে গ্রিন টি খুবই উপকারী।

আবার সন্ধেবেলা যখন আমাদের মেটাবলিজমের মাত্রা কমে যায় তখন গ্রি টি মেটাবলিজম মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

তাই গ্রিন টি খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় সকাল ১০-১১টা মধ্যে বা সন্ধেবেলা। অন্য দিকে, ম্যাক্রোবায়োটিক নিউট্রিশনিস্ট ও হেলথ প্র্যাক্টিশনার শিল্পা অরোরার মনে করেন, সকাল ও সন্ধে দুই সময়ের জন্যই ভাল গ্রিন টি।

আরো পড়ুনঃ  মুখের দুর্গন্ধ দুর করুন ঘরোয়া উপায়ে

তবে যাদের ঘুম নিয়ে সমস্যা রয়েছে তাদের সন্ধেবেলা গ্রিন টি না খাওয়াই ভাল কারণ তা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আবার যেহেতু গ্রিন টি ক্যালোরি ঝরাতে সাহায্য করে তাই খাওয়ার ১-২ ঘণ্টা পর গ্রিন টি খাওয়াও উপকারী।

সতর্কতা

খাবার খাওয়ার আগে বা পরে গ্রিন টি খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি না খাওয়া ভালো এতে রাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।