স্বাস্থ্যকর ইফতারে যা খাবেন

পবিত্র রমজান সিয়াম সাধনার মাস। মুসলমানদের রহমত, বারকাত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস। প্রচন্ড গরমের লম্বা দিন শেষে ইফতার করে মুসলিমরা। সারা দিনের এই ইফতার স্বাস্থ্যকর না হলে কি হয় ? স্বাস্থ্যকর ইফতারে যা খাবেন, যা খাবেন না এই নিয়ে কিছু পরামর্শ থাকছে আজকে।

খেজুর ও শরবত

খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। পাশাপাশি খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম।

খেজুরে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।

শরবত জাতীয় খাবার হিসেবে লেবুর শরবত, লাচ্ছি, তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, তোকমার শরবত, আখের গুড়ের শরবত অনেক উপকারি ও স্বাস্থ্যকর।

ছোলা

ছোলা রোজার পরিচিত একটি খাবার। তাছাড়া ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অনেক তেল ও মসলায় তৈরি ভুনা ছোলা খেলে উপকারের পরিবর্তে অপকার হতে পারে।

ছোলা সারারাত ভিজিয়ে রাখলে ভালো এবং সিদ্ধ ছোলার সাথে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা, টমেটো ইত্যাদি মিশিয়ে অথবা সামান্য তেলে ছোলার খাবার তৈরি হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

আরো পড়ুনঃ  ইন্টারনেটে কিছু মজার ওয়েবসাইট

কাঁচা ছোলা খেলেও অনেক খাদ্য আঁশ ও প্রোটিন পাওয়া যায়।

তরল খাবার

সারাদিন পানির অভাবে শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইফতারে তরল খাবারের জুড়ি নেই। ভাজা পোড়া খাবারের চেয়ে তরল খিচুরী বা পায়েস যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনি তৈরি করা ও সহজ।

এছাড়া ও ইফতারে স্যুপ ও হালিম অনেকেরই পছন্দ। স্বাদের পাশাপাশি এই খাবার গুলো আপনার শরীরকে ডি হাইড্রেশন থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

শাক সবজি ও ফলমুল

আমাদের অনেকেই শাকের বড়া, বেগুনি, চপ ইত্যাদি রকমের ভাজা খাবার পছন্দে করেন। এই খাবারগুলো একটু পরিবর্তন করে খাওয়া যেতে পারে ইফতারে।

ধরুন বেগুন,আলু, শাক ইত্যাদি সবজি দিয়ে একটি পুষ্টিকর আইটেম ইফতারে যোগ করতে পারেন।

ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর ফলমুল

এতে করে গ্যাসট্রিক ও বুক জ্বলা থেকে যেমন আরাম পাবেন তেমনি শরীরে ভালো পরিমাম ফাইবার ও ভিটামিনের যোগান হবে।

স্বাস্থ্যকর ইফতারে যা খাবেন এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মৌসুমি ফল। কম করে হলেও একটি ফলের আইটেম ইফতারে রাখা উচিত।

আরো পড়ুনঃ  গ্রীন-টি এর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

মৌসুমি ফল যেমন তরমুজ, আম, পেয়ারা ইত্যাদি রাখতে পারেন মেন্যু তে।
এছাড়া সারা বছর পাওয়া যায় এমন ফল যেমন আপেল, আঙুর, কমলা, ডালিম ইত্যাদি ফল রাখতে পারেন ইফতারে।

মিষ্টি জাতীয় খাবার

মিষ্টি জাতীয় খাবার ডায়েবেটিস রোগীদের জন্য না খাওয়া ভালো। তবে আজকাল বাজারে অনেক ধরনের চিনিমুক্ত মিষ্টি স্বাদের ট্যাবলেট বা সুগার ফ্রি সুইট ঔষধ পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনি ছাড়া সহজেই দুধ চিড়া, পায়েস, সেমাই ইত্যাদি বানানো যায় এসব কৃত্রিম সুগার দিয়ে।

সতেজতায় দই চিড়া

এছাড়া সারাদিনের সতেজতা আনতে খেতে পারেন ফালুদা জাতীয় খাবার। ঠান্ডা দই চিড়া ও ফালুদা মিষ্ঠান্ন হিসেবে রাখতে পারেন ইফতারে। এই খাবারগুলো যেমন সুস্বাদু তেমনি বদহজম কমাতে সাহায্য করে।

যেসব খাবার খাওয়া উচিত নয়

আমরা অনেকেই বাজারের পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপী, ছোলা ইত্যাদি দিয়ে ইফতার করি।

এগুলো বারবার একই তেলে ও অস্বাস্থ্যকর ভাবে তৈরি হওয়ায় হতে পারে আপনার স্বাস্থ্য ঝুকির কারন।

আরো পড়ুনঃ  IMDb জরিপে জনপ্রিয় কিছু বলিউড সিনেমা

এছাড়া অতিরিক্ত তৈলাক্ত এ খাবার গুলো গ্যাস্টিকের প্রধান কারন। বুক জ্বলা পুড়া, বদ হজম এমনি পেটের অসুখ ও হতে পারে।

তাই এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অনেকে আবার ইফতারে এক সঙ্গে অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে করে শরীরে অশান্তি ও ক্লান্তি ভাব হয়।

তাই এক সঙ্গে বেশি না খেয়ে কিছুক্ষন পর পর খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।