বিভিন্ন দেশে প্রচলিত ধর্ষনের শাস্তি

ধর্ষন শব্দটি আগে তেমন প্রচলিত না থাকলেও বর্তমান সময়ে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত সকল বয়সের লোকের কাছেই পরিচিত এক শব্দ ।

টিভি, পত্র পত্রিকায় প্রতিদিনই কোন না কোন শিরোনামে স্থান পায় এই শব্দটি।

জরিপে দেখা যায় নিজ পরিবার বা নিকট আত্বীয় ধারা এই অপরাধ বেশি হচ্ছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা কেউ ই রেহাই পাচ্ছে না এই মহামারি থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন দেশের প্রচলিত আইন ও এর দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থাই পারে সমাজ কে এর কবল থেকে বাঁচাতে।

চলুন দেখে নেয়া পৃথীবির বিভিন্ন দেশে ধর্ষনের শাস্তির বিধান

সৌদি আরব

মধ্য প্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে ধর্ষনের বিভিন্ন শাস্তি প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফাঁসি, বেত্রাঘাত, প্রস্থর নিক্ষেপ ও যাবতজীবন কারাদন্ড।

রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে সৌদি আরবে ১৫০ টি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় যার মধ্যে ৮ টি ছিল ধর্ষন মামলার।

ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে চার জন সাক্ষ্যির প্রয়োজন পরে এই দেশে

ইরান

অপরাধ প্রমানের পর ধর্ষকদের জনসম্মুখে মাথায় গুলি অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় ইরানে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ইরানে মোট ২৫০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে ধর্ষণের দায়ে। 

উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়াতে ও ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।

অভিযোগ প্রমান হলে সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে শাস্তি কার্যকর করা হয়। মাথায় গুলি বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

ভোক্তভোগী নারীকে পর্যবেক্ষনে রাখা হয় এই কয়দিন, যদি ঐ নারীর চরিত্র, ধর্ষনে প্রলুব্ধ করা এমন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে শাস্তি শিথীল করা হয়।

কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধী বেকসুর খালাস ও পায়।

ভারত

রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি করে ধর্ষন অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে।

২০১৮ সালে পাস করা এক নির্বাহী আদেশে ভারতে ১২ বছরের কম বয়সী মেয়ে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়।

ওই সময়ে ভারতজুড়ে চলতে থাকা ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

ভারতের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের কারণে যদি ভুক্তভোগী মারা যান অথবা এমনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন যে তিনি কোনো ধরণের নাড়াচাড়া করতে অক্ষম, সেই ক্ষেত্রেও অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। 

এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ন্যুনতম দশ বছর শাস্তির বিধান রয়েছে ভারতের আইনে।

বাংলাদেশ

গত ১২ই অক্টোবর বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। 

এর পরদিন এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে সই করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, যার ফলে সংশোধিত আইনটি কার্যকর হয়েছে। 

বাংলাদেশে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণ, ধর্ষণ জনিত কারণে মৃত্যুর শাস্তি প্রসঙ্গে ৯(১) ধারায় এতদিন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। 

তবে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দল বেধে ধর্ষণের ঘটনায় নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা আহত হলে, সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

সেই সঙ্গে উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম এক লক্ষ টাকা করে অর্থ দণ্ডের বিধানও রয়েছে।

সেই আইনে পরিবর্তন এনে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও থাকছে।

এর ফলে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দেয়া সপ্তম দেশ হলো বাংলাদেশ।

শেয়ার করুনঃ
আরো পড়ুনঃ  কিংবদন্তীর রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা