জেফ বেজোস – বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও অ্যামাজনের গল্প


জেফ বেজোস ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি নিউ মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম জেফরি প্রেস্টন জেফ বেজোস ।

তিনি একজন মার্কিন ইন্টারনেট উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী।প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এ ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা যিনি ই-কমার্সের বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে আমাজন.কম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতায় পরিণত হয়। ২০১৩ সালে তিনি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ক্রয় করেন ।

২০১৮ সালের  ২৭ অক্টোবর জেফ বেজোস বিল গেটস হতে  বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির মুকুটটি ছিনিয়ে নেন।

মূলত ৩১ বছর বয়সে জেফ বেজোসের ক্যারিয়ার পরিবর্তনের সিদ্ধান্তই তাকে বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

১৯৯৪ সালে ৩১ বছর বয়সে বেজোস Wall Street ছেড়ে দিয়ে আমাজন প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ই-কমার্স সাইট।

আর এই আমাজনের মাধ্যমে বেজোস পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হতে পেরেছেন।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী লোক কে – এ প্রশ্ন করা হলে কিছুদিন আগেও উত্তর হতো: মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। কিন্তু এখন আর তা নয়।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এখন অনলাইনে কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস।

তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৫০ বিলিয়ন বা ১৫ হাজার কোটি ডলার। তার থেকে অনেকটা পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বিল গেটস, যার সম্পদের পরিমাণ ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

অ্যামাজন কী

তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি অ্যামাজন এক সময় ছিল অনলাইনে পুরোনো বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান।

আর এখন তা শিগগীরই হতে যাচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ট্রিলিয়ন-ডলার কোম্পানি – অর্থাৎ তার মূল্য হবে এক লক্ষ কোটি ডলার।

অ্যামাজনে কেনা যায় না – বোধ হয় সারা দুনিয়ায় এমন কিছুই এখন নেই।

আপনার পোষা বেড়ালের খাবার থেকে শুরু করে বহুমূ্ল্য ক্যাভিয়ার পর্যন্ত সব কিছুই কেনা যায় অ্যামাজনে – বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে।

শুধু তাই নয় অ্যামাজনের আছে স্ট্রিমিং টিভি, এমন কি নিজস্ব এ্যারোস্পেস কোম্পানি – যাতে শিগগীরই মহাশূন্য ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে।

কিভাবে আয় করে

জেফ বেজোসের কৌশল ছিল, তিনি অর্থ আয় করার জন্য অর্থ ব্যয় করতে পিছপা হন নি।

অ্যামাজনে পণ্য বিক্রির জন্য তিনি ফ্রি শিপিং সুবিধা দিয়েছেন, দাম কম রেখেছেন ২৩ বছরের মধ্যে ১০ বছর ধরে – বার্ষিক লাভের কথা না ভেবে

ন্ডল ই-বুক রিডারের মতো যন্ত্র তৈরির জন্য বছরের পর বছর সময় ব্যয় করেছেন।

অন্যদিকে আবার অ্যামাজন যেখানে যেভাবে সম্ভব – টাকা বাঁচিয়েছেও।

অ্যামাজনের হেড অফিসে কর্মীদের গাড়ি পার্ক করার জন্য পয়সা দিতে হয়েছে। সরবরাহকারীদের সঙ্গে লড়তে হয়েছে, তারা ওয়্যারহাউজে শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে গেছে, এবং যেখানে যতটা সম্ভব – ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে।

এ বছর জুন মাসে অ্যামাজন পণ্য বিক্রি করেছে ৫৩০ কোটি ডলারের। প্রথম তিন মাসে মুনাফা করেছে ২৫০ কোটি ডলার।

অ্যামাজনে চাকরি করেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার লোক – যা ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গের জনসংখ্যার প্রায় সমান।

আমাজনে যারা পণ্য বিক্রি করেন তাদের জন্য পণ্য আনা নেয়া, ঋণ, বিক্রির প্ল্যাটফর্ম দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি এর ‘ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ’ অসংখ্য বড় বড় কোম্পানির জন্য অনলাইন ডেটা স্টোরেজ সুবিধা দিচ্ছে – যা এখন পৃথিবীর বৃহত্তম।

গত বছর তারা খাদ্যপণ্যের কোম্পানি গোল ফুডস কিনে নিয়েছে, অনলাইন ফার্মেসি কিনেছে। আরো নানা রকম চুক্তির আলোচন চলছে।

এক কথায়, অ্যামাজনের নতুন নতুন উদ্যোগ হাতে নেবার উৎসাহ এতটুকু কমে নি।

জেফ বেজোস নিজে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার মালিক।

উইকিপিডিয়া

বিবিস

শেয়ার করুনঃ
আরো পড়ুনঃ  ডোয়েইন জনসন - দ্য রক