এরিয়া ৫১ ও এলিয়েন রহস্য

এরিয়া ৫১ মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটি। যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার।

এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম রেকেল গ্রামের কাছে অবস্থিত।

খুবই গোপনীয় এই সামরিক বিমান ঘাঁটি গ্রুম হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত।

এরিয়া ৫১ নামের এই সামরিক ঘাঁটি এতটাই গোপনীয় যে, ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর অস্তিত্ব অবধি স্বীকার করেনি।

রাশিয়া এরিয়া ৫১ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ২০১৩ সালের আগস্টে প্রথমবার আমেরিকার সরকার স্বীকার করে নেয় যে, এরিয়া ৫১ এর অস্তিত্ব।

তারা স্বীকার করে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেশটির এক গোপন সামরিক পরীক্ষার স্থান হিসেবে ‘এরিয়া ৫১’ নামক জায়গাটি ব্যবহার করে।

এলিয়েন শীপ ও যোগাযোগ

১৯৮৯ সালে বব লাজার নামের এক ব্যাক্তি দাবী করেন, তিনি এই এরিয়াতে এমন সব ফ্লাইং সসার দেখতে পেয়েছিলেন, যেগুলো কোনোভাবেই পৃথিবীতে তৈরি হতে পারে না। সেগুলোর শক্তি সরবরাহ করা হচ্ছিলো এন্টিম্যাটার রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে, জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলো লালচে-কমলা বর্ণের একটি পদার্থ যার নাম ‘এলিমেন্ট-১১৫’।

আরো পড়ুনঃ  স্বাস্থ্যকর ইফতারে যা খাবেন

সসারটি এতটাই শক্তিশালী গ্র্যাভিটি ওয়েভ তৈরি করছিলো যে, সেটার উদ্দেশ্যে কোনো গলফ বল ছুঁড়ে মারলে সেটাও ফিরে আসছিলো!

লাজারের মতে, সামরিক খাতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করছিলো ইউএফও (আনআইডেন্টিফাইড ফ্লায়িং অবজেক্ট)! দুর্ভাগ্য বলতে হবে লাজারের। একবার বন্ধুদের নিয়ে তিনি লুকিয়ে সেসব সসারের টেস্ট ফ্লাইট দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে যান।

এরপরই তার চাকরি চলে যায়।

মুন ল্যান্ডিং ও এরিয়া ৫১

আমেরিকার প্রথম চাঁদে পা রাখা নিয়ে বিতর্কের কথা শুনেছেন নিশ্চয়ই। ১৯৬৯ সালে চাঁদে নীল আমস্ট্রং-এর পা রাখার ছবি নাকি এই এরিয়া ৫১-এই তোলা হয়েছিল এবং আমেরিকা মিথ্যা চাঁদে পৌছানোর দাবি করে- এমন অভিযোগও উঠেছে বহু বার।

১৯৭৪ সালে বিল কেসিং নামের একজন লেখক একটি বই লিখেন যার নাম “We Never Went to The Moon: America’s Thirty Billion Dollars Swindle” চাঞ্ছল্যকর এই বইটিতে তিনি প্রমান করতে চান আমেরিকা চাঁদে পৌছায় নি। রাশিয়ার চাদে যাওয়ার সপ্নভঙ্গে আমেরিকা ও নাসা এই নাটক রচনা করে।

আরো পড়ুনঃ  গোপন সংঘঠন ইলুমিনাতি

মুলত নীল আর্মস্ট্রিং চাদে নয় এরিয়া ৫১ এ চাদে অবতরন এর ভিডিও ধারন করেন। এই রহস্য গোপন রাখতেই এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা এত কঠোর বলে ধারনা করা হয়।

আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার

এরিয়া ৫১ এ মাটির নিচে বিশাল বাঙ্কার গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আর সেখানেও রয়েছে প্রযুক্তির অত্যাধুনিক আশীর্বাদপুষ্ট বিমানের আনাগোনা।

সেই বিমানগুলোকে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয় যাতে করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও সেগুলোর কোনো হদিস কেউ না পায়।

কারো মতে সেই বাঙ্কারগুলো ৪০ তলা ভবনের সমান উঁচু !

অনেকের ধারনা , এলিয়েনদের সেই স্পেসক্রাফটগুলো লুকিয়ে রাখা হয় পাহাড়ের নিচে। সেই বাঙ্কারের প্রবেশপথে রয়েছে বিশাল বড় দরজা যা এমন ভাবে ডিজাইন করা যাতে আশেপাশের পরিবেশের মত মনে হয় ফলে দূর থেকে দেখে কেউ একে অনুমান করতে পারে না।

মাটির তলায় রয়েছে সুড়ঙ্গ পথ যা কিনা বিভিন্ন মহাদেশের সাথে সম্পৃক্ত।

সময় ভ্রমন ( Time Travel)

আমরা অনেক গল্প না সিনেমায় সময় ভ্রমন বা time travelling এর গল্প শুনেছি বা দেখেছি। কিন্তু বাস্তবে তার প্রমান এখনো কেউ দিতে পারে নি।

আরো পড়ুনঃ  পৃ্থিবীর কিছু অদ্ভত সুন্দর জায়গা

কন্সপাইরেসি থিওরি মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক দল বিজ্ঞাণী Time Travelling নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা করেন এই এরিয়া ৫১ এ।

তাছাড়া টেলিপোর্টেশন নিয়েও গবেষনা করা হয় এখানে। টেলিপোর্টেশন হল এমন একটি ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম যেখান মানুশ মুহুর্তের মধ্যেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌছাতে পারবে।

শেয়ার করুনঃ