তবুও জীবনে প্রেম আসুক

অরণীর বিয়ের এক বছর হল আজ।

গত বছরের এই দিনটায় কেমন ছিল কি করছিল কিছুই আজ আর মনে করতে চায় না অয়ন

একটা বছর শুধুই নিজেকে ভালো রাখার আর ভালো থাকার অভিনয় করে কাটছে অয়নের প্রতিটা দিন।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হয়েছিল অয়ন আর অরণীর । নিজের অজান্তেই অরণীময় হতে থাকল অয়নের পৃথিবী ।
এক রাতে অরণী রাতে ফোনে কেঁদে কেঁদে নিজের ভালোবাসার কথা জানায় অয়নকে । অয়নও না করতে পারেনি ।

পরেরদিনের নতুন সূর্যের সাথে সাথে দুইজনও এক জন আরেকজনকে নতুন ভাবে জানা শুরু করল ।


অরণীর প্রতিটা কথা অয়ন গভীর ভাবে শুধু শুনেই যেত । ছন্নছাড়া অয়নকে ছায়া দেয়ার জন্যই যেন অরণীর আসা ।

জীবনের কোনো রঙ থাকে আগে জানা ছিল না অয়নের ।

জানা ছিল না পৃথিবীতে নিজের থেকেও বেশি আপন কাউকে ভাবা যায় কিংবা শুধু নিজের জন্য না অন্য কারো জন্যেও মাঝে মাঝে কিছু মানুষ বেঁচে থাকতে চায় ।


অরণীর শাসন, অকারনে ঝগড়া আর যখন তখন দেখা করা মোটেও খারাপ লাগত না অয়নের ।
“ভালো করে পড়বা । আগে তোমার পড়াটা শেষ হোক তারপর আমরা বিয়ে করব । ওকে ?”—অরণীর কথায় আর বেশি আপন মনে হতো অয়নের । 

অরণী আজকের এই দিনটাতে বৌ সেজে অন্যকারো ঘরে ছিল । ভাবতেই কেমন যেন শরীরের কাটা দিয়ে উঠে।

সন্ধা হয়ে আসছে । 

অয়ন এখনো বসে আছে খেয়াঘাটে । চোখের সামনে ভাসছে অয়নের অতীত। একই নদীতে এখন চড় পড়েছে ।

একটা সময় ছিল এই নদীতেই নৌকায় করে কতদুর ঘুরে বেড়িয়েছে দুজন । কখনো বা অরণী ভিজিয়ে দিত অয়নকে আর মাঝি ভাই হাসত । সাথে অয়ন ও । 

কতরাত গল্প করে ভোর হয়েছে জানা নেই । কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ত অয়ন । কখনো মুখে পানির ঝাঁপটা দিয়ে আরো কিছুক্ষণ সজাগ থাকার চেষ্টা করত । 

অরণীকে নিয়ে কত নাম না জানা রাস্তায় হেঁটে গেছে অয়ন । কখনো খুব ভোরে ঘাসের উপর খালি পায়ে । অরণীর খুব সখ ছিল অয়নের হাত ধরে হাঁটা আর গল্প করা ।

বৃষ্টির কোনো রঙ থাকতে পারে , মাটির ঘ্রাণ থাকতে পারে আগে জানত না অয়ন ।

কিংবা কিভাবে একটা চাঁদ কাউকে উপহার দেয়া যায় , চাঁদের আলোতে ভেজা যায় অথবা ফুলের সুবাসে পেট ভরানো যায় কিছুই জানা ছিল না ।

হয়ত অরণীর সাথে দেখা না হলে কখনোই জানা হতো না । 

দুজন মিলে বাচ্চাদের নামও ঠিক করে রেখেছিল । ছেলে হলে “কাব্য” আর মেয়ে হলে “কবিতা” । নাম দুইটা অবশ্য অরণীর দেয়া ।

কেমন জানি একটা কল্পনার ঘোর ছিল তখন।
অরণী আজ কাছে নেই । আর কোনদিন কাছে আসবেও না । অরণী এখন শুধুই সৃতি । 

ধুলোমাখা নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পকেট থেকে একজোড়া নূপুর বের করল অয়ন।

অরণীকে একজোড়া নূপুর কিনে পড়িয়ে দেয়ার ভীষণ সখ ছিল অয়নের । অরণীর জন্য কেনা নূপুর জোড়া আর কাউকে পড়ানো হবে না ।

আসলে অরণী ছাড়া আর কাউকে মানাবেও না ।
অরণী এখন কেমন আছে , কি করছে অয়নের জানা নেই কিংবা অয়ন কি করছে তাও অরণীর জানা নেই ।

অথচ একটা সময় প্রতিটা মুহূর্তের খবর জানা ছিল দুজনের । অরণী কি এতদিনে ভুলে গেছে অয়নকে ? এটাও কি সম্ভব ? 

বিকেলের সূর্যটা পশ্চিম কোনে ডুবার জন্য তৈরি হচ্ছে । রক্তাক্ত একটা সূর্য । অয়ন হেটে চলছে নদীর পাড় দিয়ে । সারাদিনের ক্লান্ত সূর্যটা এখন ঘুমাতে যাবে ।

আকাশে এতগুলো জোনাকির আলোর মত জ্বলতে থাকা তারা । বিশাল একটা চাঁদ ।

অভাগা সূর্যের দেখা হয়না সেই মিটমিট করা তারা । দেখা হয়না চাঁদের রুপালি আলো । 

আসলে দিন শেষে আমরা সবাই একা ।

শেয়ার করুনঃ
আরো পড়ুনঃ  অতঃপর-প্রেম