বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ি “মক্কা ঘড়ি”

লন্ডনের বিগ বেন সর্ববৃহৎ ঘড়ি হিসেবে সুপরিচিত হলেও এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ক্লক টাওয়ার নয়।

বিগ বেনের ডায়াল থেকে প্রায় ৬ গুন বড় ডায়াল নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ঘড়ির খেতাব রয়েছে “মক্কা ঘড়ির”

বিগ বেন এর চেয়েও বড় ঘড়ি রয়েছে পবিত্র মক্কা নগরীতে। যা মক্কা ঘড়ি নামে পরিচিত।

পবিত্র কাবা শরীফের দক্ষিণ গেটের কাছে ৭ টি বিশাল টাওয়ার নিয়ে নির্মিত সৌদি সরকারের মালিকানাধীন “আব্রাজ আল বাইত” কমপ্লেক্সে রয়েছে “মক্কা ক্লক টাওয়ার”।

এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঘড়ির টাওয়ার। এর উচ্চতা ৬০১ মিটার বা ১,৯৭২ ফুট। ৯৫ তলা এই টাওয়ারে স্থাপিত হয়েছে ৪৩ মিটার চওড়া ডায়ালের এই ঘড়িটি। ঘড়িটির ওজন প্রায় ৩৬ হাজার টন !

চতুরদিক থেকে দৃশ্যমান এই ঘড়িটির একমুখে লাগানো হয়েছে ৯ কোটি ৮০ লাখ গ্লাস মোজাইক।

প্রতিটি মুখে আরবি হরফে লেখা রয়েছে “ আল্লাহু আকবার” , যা ২১,০০০ রঙিন আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ  ১৬ কোটি টাকার কবুতর

৩০ কিলোমিটার দুর থেকেও পড়া যায় এই লেখা।

আল্লাহু আকবার লেখার উপরের দিকে ৫৯০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে সোনা দিয়ে মোড়ানো ৭৫ ফুট আয়তনের একটি বাঁকা চাঁদ।

আরো পড়ুন- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাটির মসজিদ

বিশেষ দিনগুলোতে এই চাঁদ থেকে আকাশে বিচ্চুরিত হয় ১৬ টি উজ্জল আলোক রশ্নি, যা আকাশের ১০ কিলোমিটার উঁচুতে পৌছে যাবে।

২০০৪ সালে এটির নির্মান কাজ শুরু হয়।প্রায় ৬ বছরের বেশি সময় পর ২০১০ সালের ১১ই আগস্ট পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন তিন মাসের জন্য পরিক্ষামুলক ভাবে ঘড়িটি চালু করে সৌদি সরকার।

২০১২ সালে এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। গ্রিনিচ সময় মান (GMT) এর বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়েছে এর “ মক্কা মান সময়” বা Mecca Mean Time (MMT)।

টাওয়ারটির স্থপতি দার আল-হান্দাসাহ এবং এর প্রধান ঠিকাদার কোম্পানি সৌদি বিনলাদেন গ্রুপ।

এই টাওয়ারটি রাজা আব্দুল আজিজ এনডাওমেন্ট প্রকল্পের একটি অংশ।

আরো পড়ুনঃ  হবিগঞ্জে এসআইকে ‘দুই রকম দুই ডোজ’ টিকা

বর্তমানে এটি ভ্রমণকারী ও হাজীগনদের কাছে একটি আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থাপনা।